টেকসই শিক্ষা নিয়ে আমার ভাবনা

Sabira Rahman Maisha, Charmugria Girls' High School, MADARIPUR, ২৫ আগস্ট, ২০১৮

টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা (বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তর) ঃ

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদন্ড। যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যত উন্নত সে দেশ তত উন্নত। আমাদের দেশ সেই দিনই উন্নত দেশে পরিনত হবে, যে দিন একজন শিক্ষার্থী বলবে – গু ধরস রং ঃড় নব ধ ঃবধপযবৎ, হড়ঃ ঃড় নব ধ ফড়পঃড়ৎ/ বহমরহববৎ/ গধমরংঃৎধঃব/ ঝবপৎবঃড়ৎু ড়ৎ ঢ়ড়ষরঃরপরধহ.

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার বিবরণঃ

প্রারম্ভিক কথাঃ শিক্ষা ক্ষেত্রে দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা একটি প্রচলিত ব্যবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে।  আমার মনে হয় এ জন্য অনেকটা সরকার-ই দায়ী। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের অনেক প্রশংসিত পদক্ষেপ রয়েছে। কিন্তু এর সাথে কিছু যুক্ত করলেই আমার মনে হয় এটা টেকসই হতে পারে।

সরকার প্রণীত সসম্যাবলীঃ

১। মাধ্যমিক স্তরের ইংরেজি পাঠ্য বই অনেকটাই মূল্যহীন। কেননা এর প্রাকটিস শ্রেণি কক্ষে খুবই কম। ইংরেজি ১ম পত্র ও ২য় পত্র বই এর সূচি এবং বিদ্যমান পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন, মিলিয়ে দেখুন তো ঠিক আছে কিনা? শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার ধারাবাহিক প্রশ্ন অনুশীলনের জন্য এই বই দুটির উপর কি পরিমান নির্ভর করতে পারবে?

২। শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক  প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ডায়নামিক ওয়েব সাইট তৈরির নির্দেশ। যা আমার দৃষ্টিতে অপরিকল্পিত।

৩। বিদ্যালয়সমূহে মনিটরিং দূর্বলতা । দূর্নীতি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ও অনিয়ম।

৪। শর্ত সাপেক্ষে বিষয় অনুমোদন (বেতন দেয়া হবে না ২ বছর / অনির্দিষ্ট সময়ে)। ফলে বিনা বেতনে বা পেটে ভাতে বর্তমান যুগে কোন সভ্য, মেধাবী এ চাকুরী করবে। ফলে সংগত কারণেই যার নাই কোন গতি, সে করবে মাস্টারী।

৫। যে কারণেই হোক প্রথমে ব্যক্তি পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি, অতপর বিনা বেতনে যার নাই কোন গতি সে করবে মাস্টারী, তাদেরকে নিয়োগ দিয়ে  এম.পি.ও ভূক্তির জন্য সরকারের নিকট বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ দৌড়া-দৌড়ি ধরা-ধরি। এক সময় তা এম.পি.ও ভূক্ত করণ। বিনিময়ে জাতি পেল কিছু স্বল্প মেধা সম্পন্ন শিক্ষক।

৬। ভিন্ন ভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর ব্যাপক তারতম্য। কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শিক্ষকের অনুপাত ১৫০ঃ১ আবার কোন কোন বিদ্যালয়ে এর অনুপাত ১০ঃ১।

সমস্য সমাধানে আমার আইডিয়া ঃ

১। ইংরেজি শিক্ষন শিখন পদ্ধতি যাচাই বাচাই করে পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে মিল রেখে পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ণ করতে হবে। পাঠ্য পুস্তকের মধ্যে প্রশ্ন ব্যাংক থাকতে হবে। যাতে বাজারের গাইড বই এর সহায়তা নিতে না হয়। শিক্ষার্থীরা তখনই বই পড়বে যখন বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসবে অথবা বই পড়লে তার আলোকে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।

২। শিক্ষা মন্ত্রনালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অত্যাধুনিক, যুগোপযোগী, আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন মাস্টার ওয়েব সাইট তৈরি করবে, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সাব ডোমেনই থাকবে। এই সাইটের মাধ্যমেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে তার আয়-ব্যয়, শিক্ষক- শিক্ষার্থী হাজিরা (ফিঙ্গার প্রিন্ট হাজিরা) এমনকি সকল ধরণের যোগাযোগ ও মনিটরিং করা হবে এ উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন সাইটটির মাধমে। তবে এ জন্য প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারকে একটি নির্দিষ্ট হারে অর্থ পরিশোধ করবে।

৩। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকে মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োজন। এ জন্য জেলা প্রশাসকের অধীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। প্রত্যেক জেলায় নির্বাহী মেজেস্ট্রেটের অধীনে একটি ভ্রাম্যমান আদালত টিম থাকবে, যিনি প্রতিদিন বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং অনিয়ম হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিবেন। ফলে কোন বিদ্যালয়ে দুর্নীতির গন্ধও থাকবে না। পড়াশুনার মান ও ভাল হবে।

৪।  বিদ্যালয়ের সময় সীমা হবে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা। প্রধান শিক্ষকের জন্য সকাল ৮:৪০ থেকে বিকাল ৫:২০ পর্যন্ত। সকল শিক্ষক সকাল ৯ টায় মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবেন। ৯-১০ টা এই ১ ঘন্টা শিক্ষকগণ স্টাডি করবেন, কনটেন্ট তৈরি করবেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ক্লাস চলবে। অতপর ৪ টা থেকে ৫ টা এ ১ ঘন্টা আবার শিক্ষকরা শ্রেণির সমস্যাবলী নিয়ে ভাববেন, একে অন্যের সাথে এ বিষয়ে মত বিনিময় করবেন এবং পড়াশুনা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য মনিটরিং সেল সফটওয়্যার সাহায্য নিয়ে মনিটরিং করবেন। ( জেলা প্রশাসক/জেলা বা উপজেলা শিক্ষা অফিস এ মনিটরিং এর কাজ করতে পারেন)

৫। শর্ত সাপেক্ষে কোন বিষয় খোলা যাবে না। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোন বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। প্রয়োজনে সরকারই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করবেন। যে শিক্ষক যে দিন কর্মে নিযুক্ত হবেন সে দিন থেকেই সরকার তার পারিশ্রমিক/ সম্মানী প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন। পেনশনের ক্ষেত্রে চাকুরী মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার ২ মাসের মধ্যে তার একাউন্টে পেনশনের টাকা জমা হতে হবে। যাতে তার পরবর্তী জীবনে কোন সমস্যা না হয়।

৬। সবচেয়ে মেধাবী ও পরিশ্রমী জন যেন এ পেশার আত্মনিয়োগ করেন তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষকের সম্মান ও সম্মানী উভয়ই উন্নত হতে হবে, ফলে কেউ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার প্রথম পেশা হিসেবে না নিয়ে শিক্ষকতায় আসবে। ফলে দেশের শিক্ষার মান ভালো হবে। জাতি দ্রুত উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছবে। প্রত্যেক শিক্ষককের জন্য আবাসন এবং রেশন এর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৭। নিজ অঞ্চল (উপজেলায়) প্রধান শিক্ষকসহ অন্য সকল শিক্ষকদের বছরের কোন একটি নির্দিষ্ট সময় লটারী বা অন্য কোন পন্থায় সচ্ছতার সহিত বদলীর ব্যবস্থা করতে হবে (এখানে যাতে কোন ঘুষ বানিজ্য না হয়)। ফলে ভাল স্কুল ও অধিকতর কম ভাল স্কুল বলতে কিছু থাকবে না। সকল স্কুলেই ভাল বলে গণ্য হবে। ফলে সকল স্কুলেই শিক্ষার্থীর পরিমান প্রায় সমান হবে। কোন শ্রেণিতে ৪৫ এর বেশি শিক্ষার্থী হবে না।


শিক্ষক প্রশিক্ষণঃ

১। শিক্ষকদের হাতে কলমে (ফিজিক্যাল) শুধু একটি মাত্রই প্রশিক্ষণ দিতে হবে- সেটা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানী দ্বারা প্রতি মাসে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের নৈতিকতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের আচার-আচরণ, চাল-চলন, কথা-বার্তা, শিক্ষার্থী শিক্ষকের সম্পর্ক, শিক্ষকদের হীনমন্যতা থেকে উত্তোলন, শিক্ষকদের মনোবল বৃদ্ধি, সততা প্রভৃতি বিষয়ে সচেতন করে তোলতে হবে। আর এ প্রশিক্ষণ হবে সকল শিক্ষকের জন্য বাধ্যতামূলক। এ ধরণের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

২। প্রত্যেক শিক্ষককেই ব্যাক্তি উদ্যোগে আইসিটির (কম্পিউটার) জ্ঞান লাভ করবেন। কম্পিউটার জ্ঞান থাকা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে সরকার মুক্তপাঠের ন্যায় কোন সাইট বা এটাকেই অনলাইন শিক্ষক প্রশিক্ষনের একটি প্লাটফর্ম স্থির করে দিতে পারেন।

৩। পাঠ্যপুস্তক বা অন্যান্য কোন নতুন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দরকার হলে তা নির্দিষ্ট  ঙহষরহব এর মাধ্যমে করতে হবে এবং সেখানে ব্যাখা ও উদাহরণসহ বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে। এখানে কোন বিষয়ে বুঝতে সমস্যা হলে ঋববফনধপশ এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্স করা যেতে পারে। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে।

৪। শিক্ষকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট/ প্রমোশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু এ ইনক্রিমেন্ট বা প্রমোশন পাওয়ার জন্য তাকে বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণরা এ ইনক্রিমেন্টর আওতাভূক্ত হবেন না। ফলে শিক্ষকগণ পেশাগত উন্নয়ণে বেশি বেশি পড়াশুনা করবেন। এর সুবিধা শিক্ষার্থীরা ভোগ করবে। টার্গেট ফিলাপ হলে নির্দিষ্ট সময় সময় পর এ ধরণের পরীক্ষা পরীক্ষামূলক ভাবে উঠিয়ে দেয়া যেতে পারে।

অর্থ সংস্থানঃ

গ্রাম বা শহর যেদিকেই তাকাই না কেন- বাস্তবিক অবস্থা হল, প্রায় সকল শিক্ষার্থীই কমপক্ষে দুই ব্যাচ প্রাইভেট পড়ে। যার গ্রাম পর্যায়ে সর্বনি¤œ খরচ ৬০০ টাকা। উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে শিক্ষার্থীদের আর অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে না। প্রাইভেট ও পড়তে হবে না।

ফলে সরকার সকল শিক্ষার্থীদের নিকট থেকেই মাসিক বেতন ধার্য করবেন এবং এ বেতন হবে স্থান ভেদে মাধ্যমিক পর্যায়ে সর্ব নি¤œ ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে যারা গরীব তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা রাখতেই হবে। প্রয়োজনে উপবৃত্তির হার বাড়াতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে হাতে হাতে কোন অর্থ গ্রহণ করবেন না। সরকার এ জন্য একটি নীতি-মালা করবেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার স্কুলের বেতন, রেজিস্ট্রেশন ফি, ফরম ফিলাপ প্রভৃতি ব্যাংকের মাধ্যমে/ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে জমা দিবেন। সরকার সফটওয়্যার এর মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করবেন। স্কুল তার অভ্যান্তরীন ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা হবার সঙ্গে সঙ্গে একটি অংশ পাবেন। অথবা নীতিমালা অনুযায়ী অভ্যন্তরীন ব্যয় নির্বাহের জন্য স্কুল শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ ধার্য করতে পারবেন। ফলে সরকার এখান থেকে প্রচুর অর্থ আয় করতে পারবেন।

আর এটা করতে হলে অবশ্যই শিক্ষকদের জাতীয়করণ করতে হবে। স্বাভাবিক ভাবে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ফলে শিক্ষকদের ক্ষোপ কমে যাবে।

সাধারণ মানুষের প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরণের বিল পরিশোধে ঝামেলা মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তারা এটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।


আইডিয়ার পক্ষে যুক্তিঃ

শিক্ষা ক্ষেত্রে দূর্নীতি দেশ ও জাতির জন্য কলঙ্ক। অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতা সম্পন্ন (অযোগ্য) শিক্ষক ও দূর্নীতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে শিক্ষার্থীরা কখনও আদর্শবান হতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও নীতিবান মনোভাব তৈরি করতে হলে- শিক্ষা ক্ষেত্রে দূর্নীতির গন্ধও থাকতে পারবে না।

আমার আইডিয়াটি বাস্তবায়িত হলে- শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন দূর্নীতি থাকবে না। পূর্বে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতা সম্পন্ন যে সকল শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন- ইনক্রিমেন্টর আশায় কিংবা স্কুল পরিবর্তন (বদলী) হবার ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটানোর জন্য, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তাকে বাসায় অনেক অনুশীলন (পড়াশুনা) করতে হবে। ফলে তারা ক্রমান্বয়ে মেধাবী হয়ে উঠবেন।

শিক্ষক বদলীর ফলে সকল স্কুলই ভাল স্কুল বলে গন্য হবে। ফলে সকল শিক্ষার্থী বাড়ির কাছের স্কুলে পড়াশুনা করবে। এর ফলে সকল স্কুলেই শিক্ষার্থীর অনুপাত প্রায় সমান হবে। বৈষম্য কমে যাবে। শিক্ষার সুষম বন্টন ফিরে আসবে।

শিক্ষকদের নৈতিক আচার-আচরণ, মনোবল বৃদ্ধি প্রভৃতি প্রশিক্ষণের মাধমে তারা মানসিক ভাবে চাঙ্গা হবেন এবং স্কুল তথা সমাজে তার সামাজিক মান মর্জাদা বৃদ্ধি পাবে।

ভ্রাম্যমান আদালতের প্রতিনিয়ত মনিটরিং তথা তদারকির ফলে কোন প্রতিষ্ঠান কোন ধরণের অনিয়ম করতে সাহস দেখাবে না।  ফলে দূর্নীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উঠে যাবে।

অত্যাধুনিক, যুগোপযোগী, আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন মাস্টার ওয়েব সাইট এর মাধ্যমে সরকার সবকিছুর ডিজিটাল তদারকি ও জবাব দিহিতার ব্যবস্থা করার ফলে সকল স্তরেই উন্নতির ছোয়া লাগবে এবং সব কিছু স্বচ্ছ হবে।

ভাল কিছু করতে গেলে তার জন্য একটু বিনিময় মূল্য দিতে হয়। অর্থাৎ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ণের জন্য সকল শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতেই হবে। অন্যথায় বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। যদিও এটা করতে সরকারের ব্যয় একটু বৃদ্ধি পাবে, তথাপি দেশ হবে উন্নত, মেধাবী ও নৈতিকাতায় পরিপূর্ণ।







মন্তব্য ( ২ )

মন্তব্য করতে হলে আগে লগ ইন করুন


নূরমিনা ,২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ভাল লাগলো


Shafakat Islam Anan,১২ অক্টোবর, ২০১৮

Very nice.


সর্বশেষ সংবাদ

আরও

টেকসই শিক্ষা নিয়ে আমার ভাবনা

Sabira Rahman Maisha, Charmugria Girls' High School, MADARIPUR,

২৫ আগস্ট, ২০১৮

টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা (বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তর) ঃ

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদন্ড। যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যত উন্নত সে দেশ তত উন্নত। আমাদের দেশ সেই দিনই উন্নত দেশে পরিনত হবে, যে দিন একজন শিক্ষার্থী বলবে – গু ধরস রং ঃড় নব ধ ঃবধপযবৎ, হড়ঃ ঃড় নব ধ ফড়পঃড়ৎ/ বহমরহববৎ/ গধমরংঃৎধঃব/ ঝবপৎবঃড়ৎু ড়ৎ ঢ়ড়ষরঃরপরধহ.

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার বিবরণঃ

প্রারম্ভিক কথাঃ শিক্ষা ক্ষেত্রে দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা একটি প্রচলিত ব্যবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে।  আমার মনে হয় এ জন্য অনেকটা সরকার-ই দায়ী। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের অনেক প্রশংসিত পদক্ষেপ রয়েছে। কিন্তু এর সাথে কিছু যুক্ত করলেই আমার মনে হয় এটা টেকসই হতে পারে।

সরকার প্রণীত সসম্যাবলীঃ

১। মাধ্যমিক স্তরের ইংরেজি পাঠ্য বই অনেকটাই মূল্যহীন। কেননা এর প্রাকটিস শ্রেণি কক্ষে খুবই কম। ইংরেজি ১ম পত্র ও ২য় পত্র বই এর সূচি এবং বিদ্যমান পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন, মিলিয়ে দেখুন তো ঠিক আছে কিনা? শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার ধারাবাহিক প্রশ্ন অনুশীলনের জন্য এই বই দুটির উপর কি পরিমান নির্ভর করতে পারবে?

২। শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক  প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ডায়নামিক ওয়েব সাইট তৈরির নির্দেশ। যা আমার দৃষ্টিতে অপরিকল্পিত।

৩। বিদ্যালয়সমূহে মনিটরিং দূর্বলতা । দূর্নীতি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ও অনিয়ম।

৪। শর্ত সাপেক্ষে বিষয় অনুমোদন (বেতন দেয়া হবে না ২ বছর / অনির্দিষ্ট সময়ে)। ফলে বিনা বেতনে বা পেটে ভাতে বর্তমান যুগে কোন সভ্য, মেধাবী এ চাকুরী করবে। ফলে সংগত কারণেই যার নাই কোন গতি, সে করবে মাস্টারী।

৫। যে কারণেই হোক প্রথমে ব্যক্তি পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি, অতপর বিনা বেতনে যার নাই কোন গতি সে করবে মাস্টারী, তাদেরকে নিয়োগ দিয়ে  এম.পি.ও ভূক্তির জন্য সরকারের নিকট বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ দৌড়া-দৌড়ি ধরা-ধরি। এক সময় তা এম.পি.ও ভূক্ত করণ। বিনিময়ে জাতি পেল কিছু স্বল্প মেধা সম্পন্ন শিক্ষক।

৬। ভিন্ন ভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর ব্যাপক তারতম্য। কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শিক্ষকের অনুপাত ১৫০ঃ১ আবার কোন কোন বিদ্যালয়ে এর অনুপাত ১০ঃ১।

সমস্য সমাধানে আমার আইডিয়া ঃ

১। ইংরেজি শিক্ষন শিখন পদ্ধতি যাচাই বাচাই করে পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে মিল রেখে পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ণ করতে হবে। পাঠ্য পুস্তকের মধ্যে প্রশ্ন ব্যাংক থাকতে হবে। যাতে বাজারের গাইড বই এর সহায়তা নিতে না হয়। শিক্ষার্থীরা তখনই বই পড়বে যখন বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসবে অথবা বই পড়লে তার আলোকে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।

২। শিক্ষা মন্ত্রনালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অত্যাধুনিক, যুগোপযোগী, আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন মাস্টার ওয়েব সাইট তৈরি করবে, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সাব ডোমেনই থাকবে। এই সাইটের মাধ্যমেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে তার আয়-ব্যয়, শিক্ষক- শিক্ষার্থী হাজিরা (ফিঙ্গার প্রিন্ট হাজিরা) এমনকি সকল ধরণের যোগাযোগ ও মনিটরিং করা হবে এ উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন সাইটটির মাধমে। তবে এ জন্য প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারকে একটি নির্দিষ্ট হারে অর্থ পরিশোধ করবে।

৩। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকে মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োজন। এ জন্য জেলা প্রশাসকের অধীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। প্রত্যেক জেলায় নির্বাহী মেজেস্ট্রেটের অধীনে একটি ভ্রাম্যমান আদালত টিম থাকবে, যিনি প্রতিদিন বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং অনিয়ম হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিবেন। ফলে কোন বিদ্যালয়ে দুর্নীতির গন্ধও থাকবে না। পড়াশুনার মান ও ভাল হবে।

৪।  বিদ্যালয়ের সময় সীমা হবে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা। প্রধান শিক্ষকের জন্য সকাল ৮:৪০ থেকে বিকাল ৫:২০ পর্যন্ত। সকল শিক্ষক সকাল ৯ টায় মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবেন। ৯-১০ টা এই ১ ঘন্টা শিক্ষকগণ স্টাডি করবেন, কনটেন্ট তৈরি করবেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ক্লাস চলবে। অতপর ৪ টা থেকে ৫ টা এ ১ ঘন্টা আবার শিক্ষকরা শ্রেণির সমস্যাবলী নিয়ে ভাববেন, একে অন্যের সাথে এ বিষয়ে মত বিনিময় করবেন এবং পড়াশুনা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য মনিটরিং সেল সফটওয়্যার সাহায্য নিয়ে মনিটরিং করবেন। ( জেলা প্রশাসক/জেলা বা উপজেলা শিক্ষা অফিস এ মনিটরিং এর কাজ করতে পারেন)

৫। শর্ত সাপেক্ষে কোন বিষয় খোলা যাবে না। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোন বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। প্রয়োজনে সরকারই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করবেন। যে শিক্ষক যে দিন কর্মে নিযুক্ত হবেন সে দিন থেকেই সরকার তার পারিশ্রমিক/ সম্মানী প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন। পেনশনের ক্ষেত্রে চাকুরী মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার ২ মাসের মধ্যে তার একাউন্টে পেনশনের টাকা জমা হতে হবে। যাতে তার পরবর্তী জীবনে কোন সমস্যা না হয়।

৬। সবচেয়ে মেধাবী ও পরিশ্রমী জন যেন এ পেশার আত্মনিয়োগ করেন তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষকের সম্মান ও সম্মানী উভয়ই উন্নত হতে হবে, ফলে কেউ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার প্রথম পেশা হিসেবে না নিয়ে শিক্ষকতায় আসবে। ফলে দেশের শিক্ষার মান ভালো হবে। জাতি দ্রুত উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছবে। প্রত্যেক শিক্ষককের জন্য আবাসন এবং রেশন এর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৭। নিজ অঞ্চল (উপজেলায়) প্রধান শিক্ষকসহ অন্য সকল শিক্ষকদের বছরের কোন একটি নির্দিষ্ট সময় লটারী বা অন্য কোন পন্থায় সচ্ছতার সহিত বদলীর ব্যবস্থা করতে হবে (এখানে যাতে কোন ঘুষ বানিজ্য না হয়)। ফলে ভাল স্কুল ও অধিকতর কম ভাল স্কুল বলতে কিছু থাকবে না। সকল স্কুলেই ভাল বলে গণ্য হবে। ফলে সকল স্কুলেই শিক্ষার্থীর পরিমান প্রায় সমান হবে। কোন শ্রেণিতে ৪৫ এর বেশি শিক্ষার্থী হবে না।


শিক্ষক প্রশিক্ষণঃ

১। শিক্ষকদের হাতে কলমে (ফিজিক্যাল) শুধু একটি মাত্রই প্রশিক্ষণ দিতে হবে- সেটা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানী দ্বারা প্রতি মাসে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের নৈতিকতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের আচার-আচরণ, চাল-চলন, কথা-বার্তা, শিক্ষার্থী শিক্ষকের সম্পর্ক, শিক্ষকদের হীনমন্যতা থেকে উত্তোলন, শিক্ষকদের মনোবল বৃদ্ধি, সততা প্রভৃতি বিষয়ে সচেতন করে তোলতে হবে। আর এ প্রশিক্ষণ হবে সকল শিক্ষকের জন্য বাধ্যতামূলক। এ ধরণের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

২। প্রত্যেক শিক্ষককেই ব্যাক্তি উদ্যোগে আইসিটির (কম্পিউটার) জ্ঞান লাভ করবেন। কম্পিউটার জ্ঞান থাকা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে সরকার মুক্তপাঠের ন্যায় কোন সাইট বা এটাকেই অনলাইন শিক্ষক প্রশিক্ষনের একটি প্লাটফর্ম স্থির করে দিতে পারেন।

৩। পাঠ্যপুস্তক বা অন্যান্য কোন নতুন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দরকার হলে তা নির্দিষ্ট  ঙহষরহব এর মাধ্যমে করতে হবে এবং সেখানে ব্যাখা ও উদাহরণসহ বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে। এখানে কোন বিষয়ে বুঝতে সমস্যা হলে ঋববফনধপশ এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্স করা যেতে পারে। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে।

৪। শিক্ষকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট/ প্রমোশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু এ ইনক্রিমেন্ট বা প্রমোশন পাওয়ার জন্য তাকে বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণরা এ ইনক্রিমেন্টর আওতাভূক্ত হবেন না। ফলে শিক্ষকগণ পেশাগত উন্নয়ণে বেশি বেশি পড়াশুনা করবেন। এর সুবিধা শিক্ষার্থীরা ভোগ করবে। টার্গেট ফিলাপ হলে নির্দিষ্ট সময় সময় পর এ ধরণের পরীক্ষা পরীক্ষামূলক ভাবে উঠিয়ে দেয়া যেতে পারে।

অর্থ সংস্থানঃ

গ্রাম বা শহর যেদিকেই তাকাই না কেন- বাস্তবিক অবস্থা হল, প্রায় সকল শিক্ষার্থীই কমপক্ষে দুই ব্যাচ প্রাইভেট পড়ে। যার গ্রাম পর্যায়ে সর্বনি¤œ খরচ ৬০০ টাকা। উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে শিক্ষার্থীদের আর অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে না। প্রাইভেট ও পড়তে হবে না।

ফলে সরকার সকল শিক্ষার্থীদের নিকট থেকেই মাসিক বেতন ধার্য করবেন এবং এ বেতন হবে স্থান ভেদে মাধ্যমিক পর্যায়ে সর্ব নি¤œ ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে যারা গরীব তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা রাখতেই হবে। প্রয়োজনে উপবৃত্তির হার বাড়াতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে হাতে হাতে কোন অর্থ গ্রহণ করবেন না। সরকার এ জন্য একটি নীতি-মালা করবেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার স্কুলের বেতন, রেজিস্ট্রেশন ফি, ফরম ফিলাপ প্রভৃতি ব্যাংকের মাধ্যমে/ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে জমা দিবেন। সরকার সফটওয়্যার এর মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করবেন। স্কুল তার অভ্যান্তরীন ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা হবার সঙ্গে সঙ্গে একটি অংশ পাবেন। অথবা নীতিমালা অনুযায়ী অভ্যন্তরীন ব্যয় নির্বাহের জন্য স্কুল শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ ধার্য করতে পারবেন। ফলে সরকার এখান থেকে প্রচুর অর্থ আয় করতে পারবেন।

আর এটা করতে হলে অবশ্যই শিক্ষকদের জাতীয়করণ করতে হবে। স্বাভাবিক ভাবে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ফলে শিক্ষকদের ক্ষোপ কমে যাবে।

সাধারণ মানুষের প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরণের বিল পরিশোধে ঝামেলা মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তারা এটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।


আইডিয়ার পক্ষে যুক্তিঃ

শিক্ষা ক্ষেত্রে দূর্নীতি দেশ ও জাতির জন্য কলঙ্ক। অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতা সম্পন্ন (অযোগ্য) শিক্ষক ও দূর্নীতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে শিক্ষার্থীরা কখনও আদর্শবান হতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও নীতিবান মনোভাব তৈরি করতে হলে- শিক্ষা ক্ষেত্রে দূর্নীতির গন্ধও থাকতে পারবে না।

আমার আইডিয়াটি বাস্তবায়িত হলে- শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন দূর্নীতি থাকবে না। পূর্বে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতা সম্পন্ন যে সকল শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন- ইনক্রিমেন্টর আশায় কিংবা স্কুল পরিবর্তন (বদলী) হবার ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটানোর জন্য, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তাকে বাসায় অনেক অনুশীলন (পড়াশুনা) করতে হবে। ফলে তারা ক্রমান্বয়ে মেধাবী হয়ে উঠবেন।

শিক্ষক বদলীর ফলে সকল স্কুলই ভাল স্কুল বলে গন্য হবে। ফলে সকল শিক্ষার্থী বাড়ির কাছের স্কুলে পড়াশুনা করবে। এর ফলে সকল স্কুলেই শিক্ষার্থীর অনুপাত প্রায় সমান হবে। বৈষম্য কমে যাবে। শিক্ষার সুষম বন্টন ফিরে আসবে।

শিক্ষকদের নৈতিক আচার-আচরণ, মনোবল বৃদ্ধি প্রভৃতি প্রশিক্ষণের মাধমে তারা মানসিক ভাবে চাঙ্গা হবেন এবং স্কুল তথা সমাজে তার সামাজিক মান মর্জাদা বৃদ্ধি পাবে।

ভ্রাম্যমান আদালতের প্রতিনিয়ত মনিটরিং তথা তদারকির ফলে কোন প্রতিষ্ঠান কোন ধরণের অনিয়ম করতে সাহস দেখাবে না।  ফলে দূর্নীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উঠে যাবে।

অত্যাধুনিক, যুগোপযোগী, আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন মাস্টার ওয়েব সাইট এর মাধ্যমে সরকার সবকিছুর ডিজিটাল তদারকি ও জবাব দিহিতার ব্যবস্থা করার ফলে সকল স্তরেই উন্নতির ছোয়া লাগবে এবং সব কিছু স্বচ্ছ হবে।

ভাল কিছু করতে গেলে তার জন্য একটু বিনিময় মূল্য দিতে হয়। অর্থাৎ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ণের জন্য সকল শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতেই হবে। অন্যথায় বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। যদিও এটা করতে সরকারের ব্যয় একটু বৃদ্ধি পাবে, তথাপি দেশ হবে উন্নত, মেধাবী ও নৈতিকাতায় পরিপূর্ণ।


মন্তব্য ( ২ )

মন্তব্য করতে হলে আগে লগ ইন করুন


নূরমিনা ,২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ভাল লাগলো


Shafakat Islam Anan,১২ অক্টোবর, ২০১৮

Very nice.